Posted on

খড়ের গাদায় আলো জ্বালানো একদমই উচিত নয় । হিতে বিপরীত হতে পারে । বেশ কয়েকদিন আগে একটি ফেসবুক পোস্টে আমি কমেন্ট করেছি । তার জন্য কথাটি বলা ।

প্রতি রাতের মত ফেসবুক  নিউজ পিডে স্ক্রলিং করতেছি । হঠাৎ ২৫০০ টাকায় ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিজ্ঞাপনে চোঁখ দাড়িয়ে গেল । বিষয়টি দেখে একটু বিররণ পড়লাম । দেখে অবাকই হলাম, তারা .কম ডোমেইন এবং ১০জি.বি হোস্টিং সাথে এন্ড্রয়েড এপস দিচ্ছে মাত্র ২৫০০ টাকা । পরে ফেইজটির আন্ত-প্রান্ত ঘুরে দেখে বুঝলাম প্রতিষ্ঠানটি নতুন । হয়ত একক মালিকানায় ঘরে বসে ব্যবসাটি শুরু করেছে । ভাল নিজের কর্মস্থান তৈরি করেছে । সত্যি দেশে এই রকম প্রতিটি যুবক নিজেকে কর্মসংস্থান করা উচিত । কিন্তু নিজের কর্মসংস্থান করতে গিয়ে এই আইটি ইন্ডাস্টিটিতে কি ভাবে নষ্ট করছে তার অবস্থা দেখার মত না । ওই পোস্টটির মধ্যে আমি লিখলাম আপনারাই খাতটিতে ধ্বংস করছেন । কমেন্ট করা কিছু দিন পর অন্য একজনের কমেন্ট কেউ সমাজের জন্য কিছু করতে চাইলে আপনাদের মত মানুষরা টেনে নামায় আপনার দেশ ত্যাগ করা উচিত । আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম……… বাকি উত্তর দেওয়া নিন্তান্ত গাধার কাজ হবে বলে মনে  হচ্ছে ।

যাই হোক অবুঝরে হ্যা মনে মনে হ্যাঁ বলেই বিধায় নিলাম । এভাবে আসি কিভাবে আইটি খাতকে নষ্ট করছে একটু ব্যাখ্যা করি বলি…

বিশ্ব বাজারে শুধু মাত্র ডোমেইন প্রদান করে আই.সি.এন.এন । তাদের থেকে ডোমেইন ক্রয় করতে প্রতিটি ডোমেইনের খরচ পড়ে ২ ডলারেরও কম । কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে । কিন্তু সাধারণ জনগণের জন্য আই.সি.এন.এন এর সেবাটি উন্মুক্ত নয় । সাধারণ মানুষ আই.সি.এন.এন এর রেজিস্টার্ড কোম্পানি হতে ডোমেইন ক্রয় করতে .কম ডোমেইন খরচ পড়বে গড়ে সর্বনিম্ন ৮০০ টাকা । অফার এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন দাম রয়েছে । তবে প্রথম বছর কম হলেও দ্বিতীয় বছর হতে ৮০০ অধিক টাকা প্রদান করতে হয় সাধারণ জনগণের । আর এই ৮০০ টাকার মধ্যে বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের রিসেইলাররা তাদের লাভ তুলে নিয়ে আসে । এবার আসি হোস্টিং এর বিষয় হোস্টিং এর বিষয় নির্বর করে কত জি.বি ক্রয় করছেন । যারা বিভিন্ন সার্ভার ভাড়া দিয়ে থাকে তার হিসেব অনুযায়ী গড়ে প্রতি জি.বি হোস্টিং এর দাম প্রতি বছরে প্রদান করতে হয় ৩০০ টাকা (সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা হল ০% সুবিধা নিয়ে ) । ই-কমার্স ওয়েব সাইটে সর্বনিম্ন ৫ জিবি হোস্টিং দরকার হয় । তাছাড়া হোস্টিং আরও অনেক গুলো বিষয় নির্ভর করে । তাহলে সর্বমোট সর্বনিম্ন দাম দাঁড়ালো ৮০০+(৫*৩০০)=২৩০০ টাকা । এটি হল সর্বনিম্ন 0% লাভে ৫ জিবি হোস্টিং এবং .কম ডোমেইন বিক্রির খরচ । এবার আসি ওয়েব সাইট ডিজাইন ডেবোলপমেন্ট + অফিস ভাড়া + কর্মকর্তা/কর্মচারী বেতন + অন্যান্য = ২৫০০ টাকা । তাহলে কি দাঁড়াল !!!! ওয়েব সাইট ডিজাইন ডেবোলপমেন্ট + অফিস ভাড়া + কর্মকর্তা/কর্মচারী বেতন + অন্যান্য মাত্র ২০০ টাকা ? কি ভাবে সম্ভব ?

এটি শুধু মাত্র ২টি ভাবে সম্ভব । ১. সামাজিক উন্নয়নে ভরতুকি দিচ্ছে  ২. অজ্ঞ গ্রাহদের সাথে সুযোগের সৎ ব্যবহার করছে ।

এই খানে প্রথমটি কোন ভাবেই সম্ভব না । কারণ ব্যবসা করতে এসে বিশাল লোকসান করে সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয় । এক মাত্র দ্বিতীয়টি সম্ভব ।

অজ্ঞ গ্রাহক নিয়ে কিছু কথা ঃ

বাংলাদেশে আইটি খাতে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে খুব একটি বেশি দিন হয় নি । মাত্র এক যুগের কিছু বেশি হয়েছে । কিন্তু ব্যক্তি পর্যায়ে আইটি উন্নয়নটি যত টুকু যাওয়া প্রয়োজন ছিল ততটুকু এখনো হয়ে উঠেনি । সময়ের পরিপেক্ষিতে বাধ্য হয়ে মানুষ এই খাতে পা বাড়াচ্ছে। কিন্তু এই খাতটি বিশাল হওয়ার হঠাৎ করে বুঝে হওয়া সোজা নয় । আর এই সুযোগ নিচ্ছে কিছু সুবিধাবাদি লোক জন । উক্ত প্রতিষ্ঠানটি বা ব্যক্তিটি ঠিক একই ভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অজ্ঞ মানুষদের নিকট হতে। বর্তমানে বাংলাদেশ একটি  বড় সমস্যা হল, দেশের সিংহ ভাগ মানুষ এই খাতে অজ্ঞ হওয়া । তারা প্রতিটি বিষয়কে এক কথায় টাকা দিয়ে বিচার করে । কিভাবে এই সকল সাধারণ মানুষদের সাথে প্রতারণা করে তা সহজে বুঝানের জন্য একটি ঘটনা শেয়ার করলে আপনারার সহজে বুঝতে পারবেন ।

কিছু দিন আগের কথা আমাদের অফিসে একজন গ্রাহক এসেছিল একটি এন্ড্রয়েড এপস করানের জন্য । তো একটি পর্যায়ে তার চাহিদা রাইড শেয়ারিং এপস “পাঠাও” এর মত ১০০% নকল এপস করবে । বাজেট মাত্র ২০,০০০ টাকা । তাকে জিজ্ঞাসা করলাম । স্যার আপনার কি জানা আছে, ওই এপস  এ কি কি ফিচার দেওয়া আছে ? তিনি বললেন না । তখন বিষয়টি ওনাকে বুঝিয়ে বলার পর উনি বুঝতে পারল আসলে বিষয়টি কি । পরে উনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করল ।

আমরা ইচ্ছে করলে ২০০০০ টাকায় না ৫০০০ টাকায় কাজটি করে দেওয়া সম্ভব ছিল কিন্তু কিছু দিন পরে যখন এপসটি গলার কাটা হয়ে যাবে । তখন বিষয়টি গিয়ে দাঁড়াবে এই রকম যে, প্রতিষ্ঠানটি আমাদের ঠিকমত সেবা দেয় না, প্রতিষ্ঠানটি কাজ পারে না আরও কত দেন দরবার । ২০০০০ টাকায় করে দিলে প্রথম ১৫ দিনের মাথায় যে সমস্যা দেখা দিত এপ্লিকেশনটি ধীর গতি সম্পূর্ণ । তার পর সঠিক সময়ে সঠিক স্থান দেখায় না । ০২ দিন পর গুগোল প্লে স্টোর থেকে ডিলিট । আরও অনেক কিছু ।

শেষ কথা হল আমরা সেবাটি ঠিকই দিয়েছি মাত্র ২০০০০ টাকায় । প্রথম কয়দিন সে অনেক সুন্দরভাবে চালালো । বাকি কথা গুলো আর নাহি বললাম ।

এই যে এই ঘটনাটি যদি ঘটতো তাহলে শেষ পর্যন্ত সবার দৌড় দিত ২০০০০ টাকার দিকে । এক সাথে আমরা না হলেও ১০টি অর্ডার পেতাম । দিন শেষে দেখা যেত ১০ জন গ্রাহকই পুরো দেশ করতে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান গুলো ******* । আর যারা বিজ্ঞাপনটি দেখত তারা বলে বাড়াইত সবাই তো ২০০০০ টাকা দিচ্ছে আপনারা এত্ত বেশি দাম বলতেছেন কেন ? এই হল বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা।

উত্তরণের উপায় ঃ

১.         প্রতিষ্ঠান গুলো গ্রাহকদের সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে ।

২.         অর্ডার পাওয়ার জন্য মিথ্যা বলে অর্ডার নেওয়া থেকে বিরত থাকবে হবে ।

৩.         আইটি খাতে সেবা গুলো নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতি মালা থাকা দরকার ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *